প্রবাসে বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব কবরস্থান বা ফিউনারেল হোমের অভাব রয়েছে। বর্তমানে কবর দেওয়া হয় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কিছু সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে কিছু কবরের ব্যবস্থা করেছে, তবে সব সংগঠনের পক্ষে এটি সম্ভব হয়নি। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কবরস্থানের প্রয়োজন প্রকট। এই প্রেক্ষিতে, গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে আপ স্টেটের মিডল টাউনে ১২৬ একর জায়গায় একটি কবরস্থান ও ফিউনারেল হোম নির্মাণের জন্য জমি কেনা হয়েছে। সেখানে প্রায় এক লাখ কবরের ব্যবস্থা হবে। ফিউনারেল হোমসহ এই কমপ্লেক্সের দূরত্ব নিউইয়র্কের ব্রুকলিন থেকে ৭০ মাইল। ইতিমধ্যে, এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সেমেট্রি’।
বাংলাদেশ সেমেট্রি ও ফিউনারেল হোমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২৪ এপ্রিল রাতে। এ উপলক্ষে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় গুলশান ট্যারেসে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রজেক্টের বিস্তারিত তুলে ধরা হয় এবং একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিউনিটির বিভিন্ন নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় প্রকল্পের জন্য ফান্ড রেইজিং কার্যক্রম চালানো হয়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে মো. অব্দুর রব মিয়া, নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। সমন্বয়কারী হিসেবে খোকন মোশাররফ ও তাজু মিয়া, এবং সদস্যসচিব হিসেবে জাহিদ মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান মানিক ও ইউছুফ জসীম সহ গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির নেতৃবৃন্দ সবাইকে আমন্ত্রণ জানান। অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতার জন্য কার্যকরী পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ, এবং ট্রাস্টি বোর্ড সহযোগিতা করছে।
গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক জানান, নোয়াখালী সোসাইটির প্রচেষ্টায় ‘বাংলাদেশ সেমেট্রি ও ফিউনারেল’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ১ লাখ ১০ হাজার কবর স্থান নির্ধারিত হবে, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৩ হাজার এবং পরবর্তীতে ৬৯ হাজার স্লট উপলব্ধ হবে। প্রকল্পটির জন্য ইতিমধ্যে দুই লাখ ডলার পেমেন্ট করা হয়েছে, এবং ২৪ এপ্রিল ফান্ড রেইজ করা হয়। এই কবরস্থানের স্লটগুলি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে বিক্রি করা হবে কারণ একা একা সমস্ত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় এবং নোয়াখালী সোসাইটির নিজের জন্য এত কবরের প্রয়োজন নেই।
নাজমুল হাসান মানিক আরও বলেন, প্রতিটি কবরের মূল্য নির্ধারণ ২৪ এপ্রিলের পরে করা হবে এবং দাম প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এছাড়াও উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য রাস্তা, মসজিদ, লাশ রাখার ঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে, যা বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এর জন্য আইনজীবী, রিয়েলটর, ইঞ্জিনিয়ার, এবং আর্কিটেক্টের ফি সহ বিভিন্ন খরচ পূরণ করা দরকার।
নাজমুল হাসান মানিক উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সংগঠন যদি কবরের স্লট কিনে নেয়, তাহলে তা তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে কারণ তারা নিজেরা এগুলো ম্যানেজ করতে পারবে। আমরা কর্জে হাসানার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছি, যেখানে কোনো সুদ প্রযোজ্য হবে না এবং পরবর্তীতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আশা করছি, ২৪ এপ্রিলের ইভেন্টে বড় সংখ্যক লোক উপস্থিত হবেন এবং বিভিন্ন সংগঠন কবর ক্রয়ে আগ্রহী হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, পূর্বে নোয়াখালী সোসাইটি লং আইল্যান্ড থেকে ৪০০ কবর কিনেছিল, যার মধ্যে মাত্র ২৬০টি কবর বর্তমানে অবশিষ্ট আছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অনুধাবন করা হয় যে ভবিষ্যতে আরো বেশি কবরের প্রয়োজন হবে, যা থেকে এই প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আব্দুর রব মিয়া ও জাহিদ মিন্টু প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন, এবং গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সকল স্তরের নেতারা এতে সমর্থন জোগাচ্ছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর আগে, নোয়াখালী সোসাইটি তিন ঘণ্টায় তিন লাখ ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং এবারও আশা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ উত্থাপন করা যাবে।
নাজমুল হাসান মানিক বলেন, টাউন হলের অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ের ২৩ হাজার স্লটের কাজ শুরু করা হবে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে টাউন হলের সাথে তিনটি মিটিং সম্পন্ন হয়েছে।
![]()
