আসছে ত্যাগের মহিমান্বিত দিন “পবিত্র ঈদুল আজহা’ কোরবানি করার আগে পশুর যেসব ত্রুটি দেখে নেয়া খুব জরুরি

মুসলিম বান্দার জীবনে পবিত্র ঈদুল আজহা এবং কোরবানির গুরুত্ব বিশাল। কারণ মুমিনের জীবনের একমাত্র এবাদত হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আর এ লক্ষে প্রকৃত কোরবানি মুসলমান বান্দার এবাদতকে দ্রুত মহান আল্লাহর নৈকট্যে দান করে। কোরবানি শব্দের অর্থ নৈকট্য, ত্যাগ, উৎসর্গ। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই এ কোরবানি।

বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ এ কোরবানির ঈদ (ঈদুল আজহা) পালনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর অতুলনীয় আনুগত্য এবং মহান ত্যাগের পুণ্যময় স্মৃতি বহন করে। এ লক্ষে প্রতি বছর আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম উম্মাহ পশু কোরবানি করে থাকে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন’ (সুরা কাউসার, আয়াত ২)।

মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই এ কোরবানি করতে মুসলিম উম্মাহ নিজেদের পছন্দের পশুকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি দিতে হয়।

এই কোরবানির পশু নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আমলে নেয়া খুবই জরুরি। তা না হলে কোরবানির উদ্দেশ্যে হাসিল হবে না।

এ দিকে কোরবানিকে কেন্দ্র করে জমে ওঠেছে পশুর হাট।

কোরবানিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য পশুর চারটি ত্রুটির দিকে গুরুত দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

১) গুরুতর অন্ধত্ব,
২) গুরুতর অসুস্থতা
৩) খোঁড়া হওয়া,
৪) গুরুতর স্বাস্থ্যহানি ও অঙ্গহানি ঘটা।
(আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, কোরবানি অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

উপরের এই নীতিগুলোর আলোকে আলেমরা বলেন, কোনো পশুর দুই চোখ বা এক চোখ অথবা এক চোখের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নষ্ট হয়ে গেলে তা দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ নয়। অনুরূপ যে পশুর একটি কান বা লেজের এক-তৃতীয়াংশের বেশি কেটে গেছে তা দিয়েও কোরবানি করা বৈধ হবে না। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ৫/২৯৮)

যে পশু এমন খোঁড়া যে মাত্র তিন পায়ের ওপর ভর করে চলে, চতুর্থ পা মাটিতে লাগেই না এমন পশু দিয়ে কোরবানি করলে হবে না। তবে যদি খোঁড়া পায়ের ওপর ভর করে চলতে পারে, তবে কোরবানি করা বৈধ হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৫/২২৮)

কোনো পশুর হাড়ের মগজ বা মজ্জা শুকিয়ে গেলে তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। দাঁত ওঠেনি এমন পশু দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ নয়। তবে যদি বেশির ভাগ দাঁত অবশিষ্ট থাকে তাহলে তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। শিং ওঠেনি এমন পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। অনুরূপ শিংয়ের অগ্রভাগ ভেঙে গেলেও তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। কিন্তু শিং মূল থেকে ভেঙে গিয়ে থাকলে তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নেই। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৫/২২৭-৮; ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ৫/২৯৭)

যে পশুর গায়ে বা কাঁধে দাদ হয়েছে তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। কিন্তু ঘা যদি গোশত পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তার কারণে পশুর স্বাস্থ্যহানি ঘটে তাহলে এরূপ পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নেই। (হেদায়া : ৪/৪৩২)

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *