বিমূঢ়
– বেনজির শিকদার
বহু জন্মান্তর
হাতের তালুতে থুতনি গুঁজে শুয়ে আছি!
আমাকে ঘিরে আছে
একটি সময়খেকো গৃহগোধিকার বেঢপ মুখ;
শুনি বেহাগের আর্তনাদ, অদূরে কফিনের দুখ।
ভাঙছে ফণীমনসার বন—
তৈজসের ঘ্রাণে উড়ছে একজোড়া অন্ধ মধুমক্ষিকা।
মৃত কবিতাদের মাতমে কাঁদছে এক-টব ঘন পর্তুলিকা।
ছুঁয়ে দিতে অধরপল্লব
দিলরুবা-প্রেমে মাঝে মাঝে উঁকি দেয়
একফালি আগুনরঙা ময়ূখমালী ঠোঁট।
হতে চেয়ে বৃষ্টি, এ দৃষ্টি মেঘ হয়ে যায়;
হরণ করে ইচ্ছের দীপাবলি গালিবের মতো
শংকরপ্রবাহে আকণ্ঠ তৃষ্ণা করে পান।
নির্ঘুমরাতে জখমি স্বপ্নগুলো—
ধবল-শশকের মতো ধীরপায়ে হাঁটে
অসিতবর্ণ চোখ দু’খানি যেন এক দুঃখভেজা নর্তকী।
নারীর প্রণয় নয়—
সন্ধ্যার আহ্নিকে ভাসে বিধুর সংলাপ;
ফিরে যায় বেনামি চিঠি, গাঢ় কুয়াশায় ডোবে ডাগর শশধর।
এরপর আরও কিছু দুঃখ মাপতে—
হিজলের হাহাকারে বাটখারা সাজে;
অমিত্রাক্ষরে বাড়ে বেলা, হৃদয়ে নাটমন্দিরের উৎসব।
আমি কেবল—
হাতের তালুতে থুতনি গুঁজে শুয়ে আছি।
![]()
