মুষলধারে ভারী বৃষ্টিরপাত ও ভারতের পাহাড়ী ঢলের প্রভাবে হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, সিলেট নগরী সহ বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত

মুষলধারে ভারী বৃষ্টিরপাত ও ভারতের পাহাড়ী ঢলের প্রভাবে হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, সিলেট নগরী সহ বিভিন্ন অঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত

জুমাস ডেস্ক: টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল, জলাবদ্ধতা আর বন্যার মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ফলে আবারও বন্যার পানিতে ভাসছে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকা। সোমবার ঈদের দিন ভোরে হঠাৎ করে মহানগরের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

ইতোমধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যা কবলিত বিভিন্ন পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

এদিকে, তুমুল ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি হু হু করে বাড়ছে।
এ কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের অনেক ওয়ার্ড সহ, জেলার ১২টি উপজেলাই কমবেশি প্লাবিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও সারি-গোয়াইন নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় সিলেটে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন। তিনি বলেন, সিলেটে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। এরপর গতকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে আবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বন্যাকবলিত মানুষের সূত্রে জানা গেছে, নগর ও জেলায় প্রায় ৬০০ গ্রাম ও এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গতকাল সোমবার (১৭ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত জেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ৬৯টি ইউনিয়ন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও সারি-গোয়াইন নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে পানি সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ১ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ২২ সেন্টিমিটার; কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে শূন্য দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে শূন্য দশমিক ৭৯ সেন্টিমিটার; সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সারি-গোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে শূন্য দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. ওমর সানী আকন গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কয়েক দিন ধরে জেলায় এবং পাশের দেশ ভারতের চেরাপুঞ্জি, শিলং ও আসাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে কিছুটা বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন তৎপর।

ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে পানিবন্দি মানুষ।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *