জুমাস ডেস্ক: “গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়ালো ফুটবলের দুই ‘চিরশত্রু’র লড়াই শুরুর আগেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু হলো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে গ্যালারির উত্তেজনা ছড়ালো মাঠেও। যেখানে বল দখলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, ফাউলে ব্রাজিল। একের পর এক ফাউলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সহজাত খেলাই খেলতে দিল না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফাউলের ছড়াছড়ির ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দশজনের দলে পরিণত হলো ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ল নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে বিজয়োল্লাস করতে করতে।” বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে লাতিন অঞ্চলের হলুদ জার্সিধারীদের স্তব্ধ করে আনন্দ নিত্য করেছে সাদা-আকাশি জার্সিধারীরা। দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস ওতামেন্তির বুলেট গতির হেড যেন জালে নয়, সেলেসাও সমর্থকদের পাজড় ভেদ করে। শক্তি প্রদর্শন করেও জালের দেখা পায়নি ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা ফিরল জয়ে। ব্রাজিল পেল টানা তৃতীয় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই দলের ম্যাচটি পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচটিও ছিল ব্রাজিলের মাঠে। সাও পাওলোয় ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় করোনা বিধিনিষেধ ভাঙায় আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়কে ধরতে মাঠে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। খেলোয়াড় ও স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তাদের মধ্যে হাতাহাতিতে ম্যাচ হয় পণ্ড। বুধবার (২১ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ছটায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের মাঝে শুরু হয় হাতাহাতি-মারামারি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এসে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। শুরু করে তুমুল লাঠিচার্জ। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে গ্যালারির দিকে সমর্থকদের রক্ষায় ছুটে যান মেসিসহ দলের অন্যরাও। এরপর সতীর্থদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান মেসি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। সবকিছু দারুণভাবে সামল দিলেন মেসি। মাঠে আলো ছড়ালেন গোলরক্ষক মার্তিনেস। ওতামেন্দির গোলের আগে-পরে তার দুর্দান্ত সব সেভে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের শিবির থেকে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের কাছে আগের ম্যাচে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল হেরেছিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে। সব মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচে জয় নেই ব্রাজিলের। হার তিনটিতেই। আর্জেন্টিনার এই ম্যাচে ৫১ শতাংশ বলের দখল ছিল। এসময় তারা ৮টি শট নেয় গোলের উদ্দেশে, এর মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে। সমান শটে চারটি লক্ষ্যে রাখে ব্রাজিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্তিনেস যে কাটাচ্ছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। দুর্দান্ত সব সেভে দলের জয়ে তার অবদান কম নয়। ব্রাজিল ম্যাচে ২৬ বার ফাউল করেছে , ১৬ রান আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনাকে কোনো কার্ড দেখতে হয়নি। ব্রাজিলের আগুস্তো, রাফিনিয়া ও গাব্রিয়েল জেসুস দেখেছেন হলুদ কার্ড। লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড জোয়েলিন্তন। এদিন মেসিকে পুরোপুরি ফিট মনে হয়নি। প্রথমার্ধেই দুইবার তাকে শুশ্রুষা নিতে দেখা যায়। এজন্য মাঠে চেনা ছন্দে ছিলেন না রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। মেসি ৭৮তম মিনিটে উঠে যান। বদলি নামেন আনহেল দি মারিয়া। গোল হজমের পর আর তেমন গুছিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। এই অর্ধেও বল দখলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা, ফাউলে ব্রাজিল। মেজাজ হারিয়ে তো ৮১তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ডই দেখলেন জোয়েলিন্তন। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে বল ছাড়াই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে লাল কার্ড দেখানো হয় নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ডকে। আর্জেন্টিনা শেষ বাশি বাজার সাথে সাথে বাধনহারা উল্লাস শুরু করে। মাথা নিচু করে নীরবে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করল। ৬ ম্যাচে ৫ জয়র ১৫ পয়েন্ট লা আলবাসিলেস্তেদের। সমান ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উরুগুয়ে। এদিন তারা বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারায়।
ব্রাজিল ৬ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দশ দলের তালিকায় ছয়ে ।
![]()
