জুমাস ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী বায়ু দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের এই সময়ে বিশুদ্ধ বাতাসের সন্ধান যেন দুরূহ হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্বের বেশ কিছু দূরবর্তী অঞ্চলে রয়েছে নির্মল বায়ু। এর মধ্যে প্রথমেই আসে কেপ গ্রিমের নাম। এই উপদ্বীপটি অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি তাসমানিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের পাশে অবস্থিত। কেপ গ্রিমের বাতাসের বিশুদ্ধতার একটি বড় কারণ মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং জনবসতি না থাকা। ‘পৃথিবীর কিনারা’ নামে পরিচিত এই উপদ্বীপে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। গত কয়েক বছরে কয়েকজন পর্যটক কেপ গ্রিমে পা রেখেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেননি। বাতাসের গুণমান পরিমাপকারী একটি স্টেশন জানায়, কেপ গ্রিমে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল বায়ু রয়েছে। প্রবল বাতাসের জন্যও পরিচিত উপদ্বীপটি। এখানকার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থা কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিসিরো) এর জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যান স্ট্যাভার্ট বিবিসিকে বলেন, কেপ গ্রিমের বাতাস বরফাচ্ছন্ন দক্ষিণ মহাসাগরের ওপর হাজার হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে আসে। ফলে এখানকার বাতাস বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর মধ্যে অন্যতম।সম্প্রতি বিশুদ্ধ বাতাস মেলে- এমন কয়েকটি অঞ্চলের তালিকা তৈরি করেছে। সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কেপ গ্রিম উপদ্বীপ।বিশ্বজুড়ে কেপ গ্রিন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাওনা লোয়া এবং ম্যাকুয়ারি দ্বীপ, উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত নরওয়ের মেসালবার্দ শহরের বাতাসও সিসিরোর তালিকায় স্থান পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, নীতি নির্ধারক ও পরিবেশ কর্মীরা বাতাসের গুণমান পর্যবেক্ষণ, শিল্প ও পরিবহন থেকে দূষিত বায়ু নির্গমন কমানো এবং ভঙ্গুর বায়ুমণ্ডলকে রক্ষা করে এমন টেকসই পদ্ধতি প্রচারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। নির্মল বায়ুর জন্য এই প্রচেষ্টা কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়ও। এ ক্ষেত্রে কেপ গ্রিমের মতো বিশুদ্ধ বাতাস পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জন্য সহায়ক হতে পারে।
![]()
