শেষ ওভারে পাঁচ ছক্কা, কলকাতার অবিশ্বাস্য জয়

শেষ ওভারে পাঁচ ছক্কা, কলকাতার অবিশ্বাস্য জয়

রশিদ খানের হ্যাটট্রিকে ম্যাচ ঘুরে গিয়েছিল গুজরাট টাইটান্সের দিকে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের বন্দরে যেতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রয়োজন ছিল অভাবনীয় কিছু। সেটাই উপহার দিলেন রিঙ্কু সিং। শেষ ৫ বলে ৫ ছক্কায় ২৮ রানের সমীকরণ মিলিয়ে দলকে এনে দিলেন শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়।

আইপিএলে রোববারের প্রথম ম্যাচে রোমাঞ্চের ভেলায় চেপে ৩ উইকেটে জিতেছে কলকাতা। গুজরাটের ২০৪ রান শেষ বলে পেরিয়ে গেছে দলটি।

দুই ওভার মিলিয়ে শেষ ৮ বলে কলকাতার প্রয়োজন ছিল ৩৯ রান। বিস্ময়ের স্রোতে ভাসিয়ে ৭ বলে রিঙ্কু নেন ৪০ রান! শেষের অভাবনীয় ঝড়ের শুরু জশ লিটলের বলে ছক্কা ও চার মেরে। 

তখনও কলকাতার প্রয়োজন ৬ বলে ২৯। ইয়াশ দয়ালের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে রিঙ্কুকে স্ট্রাইক দেন উমেশ যাদব। পরের পাঁচ বল যেন বোলার ও গুজরাটের জন্য দুঃস্বপ্ন। টানা তিনটি ফুলটস বল ছক্কায় ওড়ান রিঙ্কু। পরের দুটি বল টেনে লং অফ দিয়ে উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠান উত্তর প্রদেশের ২৫ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। 

এক সময়ে তার ছিল ১৪ বলে ৮ রান। শেষ পর্যন্ত ৬ ছক্কা ও ১ চারে ২১ বলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৮ রানে।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২০৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে গুজরাট।

৩১ বলে ৩৯ রান রান করেন শুবমান গিল। ৩৮ বলে ৫৩ রান আসে সাই সুদর্শনের ব্যাট থেকে। শেষের দিকে রানের গতিতে দম দেন বিজয় শঙ্কর। ২৪ বলে ৫ ছক্কা ও ৪টি চারে তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৩ রানে।

কলকাতার হয়ে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন ক্যারিবিয়ান অফ স্পিনার সুনিল নারাইন।

রান তাড়ায় ৪ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় কলকাতা। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও অধিনায়ক নিতিশ রানার ব্যাটে ১৩ ওভারে ২ উইকেটে ১২৮ রানের দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়ায় দলটি।

২৯ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন নিতিশ। আইয়ার ও রিঙ্কুর ব্যাটে কলকাতা এগিয়ে যায় আরও কিছুটা দূর। ৪০ বলে পাঁচ ছক্কা ও আট চারে ৮৩ রান করে আইয়ার ফেরার পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পরের ওভারে পরপর তিন বলে আন্দ্রে রাসেল, সুনিল নারাইন ও শার্দুল ঠাকুরকে ফিরিয়ে আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ।

মনে হচ্ছিল ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে কলকাতা। কিন্তু সেখান থেকে অকল্পনীয় এক জয় এনে দিলেন রিঙ্কু। অভাবনীয় ইনিংসে ম্যাচ সেরা তিনিই।

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *