জুমাস ডেস্ক : সিলেট বিভাগে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছে।
গত বুধবার (৫ জুন) সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সাত উপজেলায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলাগুলো হচ্ছে- সিলেট জেলার কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ ও মধ্যনগর এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট।
নির্বাচনের ফলাফল নিম্নরূপ :
সাত উপজেলার মধ্যে চারটিতে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন নতুন মুখ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান পুত্র সাদাত মান্নান অভি। সুনামগঞ্জ জেলার নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলা পরিষদে এবারই প্রথম ভোটে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। সিলেট জকিগঞ্জে লোকমান উদ্দিন চৌধুরী এবং কানাইঘাটে মস্তাক আহমদ পলাশ প্রথম বারেরমত বিজয়ী হয়েছেন।

সিলেট থেকে
জকিগঞ্জ : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র ভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলে ৭৭টি ভোটকেন্দ্রে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী। লোকমান উদ্দিন চৌধুরী দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬৮৯ ভোট।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান কাপ পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ২০৮ ভোট। জাপা নেতা মর্তুজা আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৭৯০ ভোট ও জাপা নেতা আব্দুল শুক্কুর পেয়েছেন ৪ হাজার ১৮৮ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আল ইসলাহ নেতা মাওলানা আব্দুস সবুর। তিনি তাঁর চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৯১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুহেল তালা প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৩৭ ভোট। আজমল হোসেন মাইক প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৭৭, প্রবাসী ফারুক লস্কর টিউবওয়েল প্রতীকে ৯ হাজার ৩৭২ ভোট ।
নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন সুলতানা আক্তার । তিনি ফুটবল প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৭৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মাজেদা রওশন শ্যামলী ২৬ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়েছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা তাসলিম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৫১৩ জন।
কানাইঘাট : কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্র ভিত্তিক প্রাপ্ত ৮১টি ভোট কেন্দ্রের বেসরকারী ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ।
তিনি মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ২৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী এ কে এম শামসুজ্জামান বাহার ঘোড়া প্রতীকে ৩১ হাজার ৬০১ ভোট পেয়েছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে তালা মার্কা প্রতীকে হাফিজ আলতাফ হোসেন ৩২ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদ আহমদ চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ২১৫ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৪৪ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন পদ্মফুল মার্কার প্রার্থী রোকসানা জাহান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি খাদিজা বেগম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ১৩৯ ভোট।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারজানা নাসরীন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ থেকে
সুনামগঞ্জ সদর : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদরে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
মোটর সাইকেল প্রতীকের ৭৮ টি কেন্দ্রের ফলাফলে চপল পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৩১১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৭০ ভোট। আওয়ামী লীগ নেতা মনিষ কান্তি দে মিন্টু পেয়েছেন ১৫ হাজার ৬২১ ভোট।
এই উপজেলায় মাইক প্রতীকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৩ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে হাফিজ ফেদাউর রহমান এবং বৈদ্যুতিক ফ্যান প্রতীকে ২৯ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো নিগার সুলতানা কেয়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী সাদাত মান্নান অভি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ৫৬ টি কেন্দ্রের ফলাফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাদাত মান্নান অভি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৫৫ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোশাররফ হোসেন জাকির মাইক প্রতীকে ৩৪ হাজার ৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুকনুজ্জামান রুকন চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৬৯ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রফিকা মহির ফুটবল প্রতীকে ২৩ হাজার ৪শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমা বেগম প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৮৮ ভোট।
উপজেলা ঝিলমিল অডিটোরিয়ামে বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা।
মধ্যনগর : উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সদ্য অতিরিক্ত আইজিপি পদন্নোতিপ্রাপ্ত আব্দুল বাতেনের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৫৩ ভোট। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী সাইদুর রহমান কাপপিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৯১৭ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে চশমা প্রতীকে ১২ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়ে হজরত আলী এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল প্রতীকে ২০ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে হালুফা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ থেকে
মাধবপুর : মাধবপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৪ হাজার ৬শ ৯৬ ভোট বেশি পেয়ে এস এফ এ এম শাহজাহান পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীকে ৬২ হাজার ৪শ ৮২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭শত ৮৬ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে বই প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. এরশাদ আলী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুল আজিজ চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৬৮ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সেলাই মেশিন প্রতীকে ৫০ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আছমা আক্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ফাতেমাতুজ জহুরা রীনা পদ্মফুল মার্কায় পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৩০ ভোট।
চুনারুঘাট : চুনারুঘাটের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান ঘোড়া প্রতীকে ৫৭ হাজর ৬৫৪টি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২১৯টি ভোট পেয়েছেন।
![]()
