বর্ণমালার কীর্তন – রওশন হাসান

বর্ণমালার কীর্তন
– রওশন হাসান

একুশ এলো আম্রমুকুলে, পলাশের লালিম রাঙা ভোরে
কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমার জলধারায়
শাপলা-পদ্মের বৃন্তে, জুঁই, মল্লিকার শাখায় শাখায় l
কোকিল, শালিক, চড়ুইয়ের কলতানে
সোনালি ধানের ক্ষেতে, শর্ষে মাঠে, কাশবনে,
পিঠাপুলির ষড়ঋতুতে l
পল্লীতে, জনপদে, নগরে, বন্দরে
আমার মুখের প্রথম বুলিতে, মায়ের দোল খাওয়া কোলে
শৈশব রুপকথাদের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় l

আমার বর্ণমালার সবুজাভ অবয়বে
আমি প্রতিদিন হারাই সে অরণ্যে
উচ্চশিরে ভাষার দেহে
‘অ’ থেকে চন্দ্রবিন্দুতে ঠেকাই মাথা
‘সোনার বাংলা’ সঙ্গীত সুধার অক্ষরে অক্ষরে
নিবৃত করি শীতলতা l

লক্ষ প্রাণ আজও বাংলার আকাশে
উদিত সূর্যের হলকায় ছড়ায় রশ্মি
আলাওলের ঐতিহ্যে, সারেং বৌ, কায়কোবাদ,
রবীন্দ্র-নজরুলের সাহিত্যসম্ভারে, বিষাদ-সিন্ধুর
সাগরে কল্লোল তোলে l
গ্রামবাংলার পুঁথি-গাঁথা, পালাগানে
জসীমউদ্দীনের ‘নক্সীকাঁথার মাঠে’
বর্ণমালার সূচীকর্ম বুনন l
লালন-হাসনের গানে, বয়ানে
ভাটিয়ালি, বাউল, জারি, সারির কীর্তন সমাহারে
আত্মত্যাগে শত শহীদের প্রাণ l

বর্ণমালায় সাজানো আমার কাব্য স্বাধীনতা
একটি ভাষা, একটি পরিচয়, বাঙালি আমি
আমার চেতনায়, ওষ্ঠে বিরাজমান মাতৃভাষার অঙ্গসৌষ্ঠব l
শহীদমিনারে ফুলহারে শ্রদ্ধা মাখা
নগ্ন পায়ে আমি আসি ফিরে ফিরে
বর্ণমালা, আমার বর্ণমালা, তোমায়
ভুলি কি করে আমার অস্তিত্বের প্রশ্নে ?
রক্তের হোলিতে কিনেছি মায়ের মুখেরভাষা,
আমার একুশে ফেব্রুয়ারি
আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সদা বহমান
আমার অহংকারে, আমার আমৃত্যু অধিকারে l

Loading