একটানা জিতেই যাচ্ছিল খুলনা টাইগার্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, দুর্দান্ত ঢাকা ও রংপুর রাইডার্সকে যেমন হারিয়েছে, তেমনি প্রথম সাক্ষাতে ফরচুন বরিশালকেও তারা ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত করে। শনিবার দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের ফিরতি লড়াইয়েও জয়ের পথে ছিল খুলনা। কিন্তু শেষ ওভারে জেতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৮ রান মাত্র ৪ বলেই তুলে নিয়ে ৫ উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয় পায় বরিশাল।
শ্রীলঙ্কার পেস অলরাউন্ডার দাসুন শানাকাকে বেধড়ক পিটিয়ে শোয়েব মালিক ও মেহেদি হাসান মিরাজ এই রান তুলে নিয়ে হারতে থাকা বরিশালকে গুরুত্বপূর্ণ জয়টা এনে দেন। ব্যাটে-বলে দুর্বার মালিকই হয়েছেন জয়ের নায়ক। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় খুলনা। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয়। এটি চলতি আসরে পঞ্চম ম্যাচে খুলনার প্রথম হার। আর ষষ্ঠ ম্যাচে তৃতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে বরিশাল।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে খুলনা। তবে ৩৩ রানেই ২ উইকেট হারায় তারা। রানের গতিও তেমন ভালো ছিল না। নবম ওভারে মালিক বোলিংয়ে এসে জোড়া আঘাতে ফিরিয়ে দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও আফিফ হোসেনকে (০)। পারভেজ ২৪ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৩৩ রান করেন। এভাবেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে খুলনা।
এক সময় ৮৮ রানেই হারিয়ে ফেলে ৭ উইকেট। কিন্তু তারপর দুই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজ ও ফাহিম আশরাফ অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছেন। তাদের ব্যাটিং তা-বে শেষ ৪ ওভারে খুলনা পেয়েছে ৬৭ রান! নওয়াজ ২৩ বলে ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৩৮ ও ফাহিম মাত্র ১৩ বলে ৫ চার, ১ ছয়ে ৩২ রান করেন। তাই ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় খুলনা। শেষ ৩ ওভারেই আসে ১৮ রান করে ৫৪ রান! মালিক ৪ ওভারে ২৪ রানে ২টি ও তাইজুল ইসলাম ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে পাওয়ার প্লের ৬ ওভার একেবারেই ভালো যায়নি বরিশালের। ২ উইকেটে ৩৫ রান তুলে বেশ চাপেই থাকে তারা। ফর্মে থাকা আহমেদ শেহজাদ ০ ও তামিম ইকবাল ১৮ বলে ২ চার, ১ ছয়ে ২০ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম ২৬ রানের জুটি কিছুটা দ্রুতবেগে করেছেন। কিন্তু সৌম্য দশম ওভারের শুরুতেই ২৩ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৬ রানে বিদায় নেন।
এরপর মুশফিকের সঙ্গে মালিকের জুটি হয়েছে ২৫ বল থেকে ৩০ রানের। ওই সময় ২৫ বলে ২ চারে ২৭ করে সতর্ক মুশফিকও সাজঘরে ফেরেন। ইনফর্ম মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও ৯ বলে ৪ রানে বিদায় নেন। আরও বিপাকে পড়ে বরিশাল। কিন্তু ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন মিরাজ। তার সঙ্গে জ্বলে ওঠেন মালিকও।
৩ ম্যাচ খেলে ফিরে যাওয়া এ অভিজ্ঞ পাক অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তাই যেন ক্ষোভ ঝেড়েছেন মালিক। দারুণ বোলিংয়ের পর মিরাজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন থেকে ২৩ বল থেকে ৫৫ রানের জুটি গড়ে ২ বল হাতে রেখেই বরিশালকে বিজয়ী করেছেন। শেষ ওভারে ১৮ রান দরকার ছিল। শানাকার প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলে ১ রান নেন মিরাজ।
তৃতীয় বলে চার ও চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোর সমান করেন মালিক। হতাশায় পরবর্তী বলে শানাকা ওয়াইড দিলে জিতে যায় বরিশাল। মালিক ২৫ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ৪১ ও মিরাজ ১৫ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। ফাহিম ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
স্কোর ॥ খুলনা টাইগার্স ইনিংস- ১৫৫/৮; ২০ ওভার (নওয়াজ ৩৮*, পারভেজ ৩৩, ফাহিম ৩২*; তাইজুল ২/৭, মালিক ২/২৪)।
ফরচুন বরিশাল ইনিংস ১৫৬/৫; ১৯.৪ ওভার (মালিক ৪১*, মিরাজ ৩১*, মুশফিক ২৭, সৌম্য ২৬, তামিম ২০; ফাহিম ৩/১৮)।
ফল ॥ ফরচুন বরিশাল ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা ॥ শোয়েব মালিক (বরিশাল)।
![]()
