জুমাস ডেস্ক: “ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে কিভাবে ম্যাচ জিততে হয় সেটাই যেন শেখাল নেদারল্যান্ডস। সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না বাংলাদেশ। উল্টো বাজে ফিল্ডিং ও হতশ্রী ব্যাটিংয়ে অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উড়ে গেছে সাকিব আল হাসানের দল।”
বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে পা রাখে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল এই আসর। তারপর থেকে কেবলই হার। তবে গতকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) কলকাতার মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের জোরালো বিশ্বাস ছিল। সাকিব আল হাসানদের সমর্থন জানাতে এদিন গ্যালারিতে ছিল অগণিত দর্শক। তাদের হতাশই করলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। রানবন্যার বিশ্বকাপে মাত্র ২৩০ রানের লক্ষ্যে নেমে ৪২.২ ওভারে ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। ফলে ৮৭ রানের শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হলো। মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ডাচদের জয়ের নায়ক পল ফন মিকেরেন। আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসরে ছয় ম্যাচে বাংলাদেশের এটি টানা পঞ্চম পরাজয়। অন্যদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল নেদারল্যান্ডস। আর দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে নিলো ডাচরা। ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ব্যাট হাতে ডাচদের জয়ের নায়ক দলপতি স্কট এডওয়ার্ডস। অথচ এই এডওয়ার্ডস আউট হতে পারতেন শূন্য রানেই। লিটন কুমার দাস আর মুশফিকুর রহিমের পিচ্ছিল হাতের কারণে তা আর হয়নি। দিন শেষে তারই মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই হারে পয়েন্ট তালিকার নয়ে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে আটে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। তুলনামূলত সহজ লক্ষ্য তাড়ায় সতীর্থদের সাজঘরের পথ দেখিয়ে প্রথম আউটের শিকার হন লিটন। সেটাও দৃষ্টিকটু রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে। সেই শুরু। এরপর উইকেটে যেন দাঁড়াতেই ছিল ব্যাটসম্যানদের যত অস্বস্তি। ১৯ রানে দাঁড়িয়েই পরের ওভারে ফন ভিকের বলে খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান। শুরুর ধ্বস কাটিয়ে ওঠার আভাস দিয়ে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার ধারা ধরে রাখেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ফন মিকরেনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। সহ-অধিনায়কের অবদান ১৮ বলে ৯। এমন সময়ে দল যার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সেই সাকিবও আউট হয়ে যান দৃষ্টিকটুভাবে। ফন মিকেরেনের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দেন অধিনায়ক। প্রবল চাপে পড়া দল আর এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কি, উল্টো ৭০ রানের মধ্যে সাজঘরের পথ ধরেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও মুশফিকুর রহিমও। ২ উইকেটে ৪৫ থেকে ৭০ রানে যেতেই ৬ উইকেট নেই। মিরাজের ৪০ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এরপর পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল মাহমুদউল্লাহর ব্যাটের দিকে। মেহেদি হাসানকে নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের জুটিও গড়েন। কিন্তু এ যাত্রায় আর ত্রাতা হতে পারেননি আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান। জোর করে স্ট্রাইক নিতে গিয়ে মেহেদিকে রান আউট করার পরে হাঁকাতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ নিজেও। এরপর নেদারল্যান্ডসের জয়ের অপেক্ষা বাড়ান তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। নবম উইকেটে তারা ৫৭ বলে যোগ করেন ২৯ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান মাহমুদউল্লাহ ও মুস্তাফিজের। অথচ দিনটা কী দারুণভাবেই না শুরু করেছিল বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ১০৭ রান জমা হতেই নেদারল্যান্ডসের ৫ উইকেট তুলে নেন তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরিফুলরা। এরপরই লিটন-মুশফিকের সেই ক্যাচ মিস। এডওয়ার্ডসের ক্যাচটি নিতে পারলে হয়ত দেড়শর আগেই গুটিয়ে যেন ডাচরা। মুস্তাফিজুর রহমানের একই ওভারে দুইবার উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন এডওয়ার্ডস। প্রথমবার স্লিপে দুই হাতের তালুতে পেয়েও সহজ ক্যাচ মিস করেন লিটন। পরে নাগালে পেয়েও ডানে ঝাপিয়ে ক্যাচ নিতে পারেননি উইকেটকিপার মুশফিক। দিনশেষে বাংলাদেশ হেরেছে সেই এডওয়ার্ডসের ব্যাটেই। ডাচরা যে ২২৯ রানের সংগ্রহ গড়ে তার মূল কারিগর এই কিপার-ব্যাটার। প্রতিপক্ষ দলপতি করেন ৮৯ বলে ৬ চারে ৬৮ রান। বাস ডি লিডিকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭৪ বলে ৪৪ ও সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখটকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ১০৫ বলে ৭৮ যোগ করেন এডওয়ার্ডস। শেষ ওভারে ১৭ রান দেন মেহেদি হাসান। তাসকিনের ওভার থাকলেও মেহেদিকে আনেন সাকিব। তাতেই আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের ওভার। মুস্তাফিজ, তাসকিন, শরিফুল ও মেহেদি নেন দুটি করে উইকেট। একটি নেন সাকিব। অন্যটি রান আউট। এই মাঠেই আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আগামী ৩ নভেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে নেদারল্যান্ডস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নেদারল্যান্ডস: ৫০ ওভারে ২২৯ (বিক্রমজিত ৩, ডাউড ০, বারেসি ৪১, অ্যাকারম্যান ১৫, এডওয়ার্ডস ৬৮, ডি লিডি ১৭, সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট ৩৫, লোগান ফন বিক ২৩*, শারিজ আহমেদ ৬, আরিয়ান দত্ত ৯, পল ফন মিকেরেন ০, অতিরিক্ত ১২;
বোলিং: শরিফুল ১০-০-৫১-২, তাসকিন ৯-১-৪৩-২, সাকিব ১০-১-৩৭-১, মিরাজ ৪-০-১৭-০, মুস্তাফিজ ১০-১-৩৬-২, মেহেদি ৭-০-৪০-২)।
বাংলাদেশ: ৪২.২ ওভারে ১৪২ (লিটন ৩, তানজিদ ১৫, মিরাজ ৩৫, নাজমুল ৯, সাকিব ৫, মুশফিকুর ১, মাহমুদউল্লাহ ২০, মেহেদী ১৭, তাসকিন ১১, মোস্তাফিজুর ২০, শরীফুল ০*, অতিরিক্ত ৬;
বোলিং: আরিয়ান ১০-৩-২৬-১, লোগান ৯-১-৩০-১, আকারম্যান ৭-১-২৫-১, মিকেরেন ৭.২-০-২৩-৪, ডি লিডি ৭-০-২৫-০, আহমেদ ২-০-১৩-০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮৭ রানে পরাজিত।
ম্যান অব দা ম্যাচ: পল ফন মিকেরেন।
![]()
