ইংল্যান্ডের কাছে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের কাছে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

জুমাস ডেস্ক: গতকাল মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকাল এগারো টার সময়ে ধর্মশালা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ১৩৭ রানের বিশাল পরাজয় বরণ করেছে সাকিব আল হাসানের দল। এটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার। যথারীতি সাম্প্রতিক দলের ব্যর্থতার মূলে ব্যাটিং ব্যর্থতা। বিশ্বকাপ মঞ্চে অন্তত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এত বাজে পারফর্ম্যান্স কখনোই দেখায়নি বাংলাদেশ দল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। এই মাঠে তারা ১০ বছর পর আবার খেলতে নেমে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রানের রেকর্ডটাই গড়ে ফেলে। জবাব দিতে নেমে দীর্ঘদিন পর রানে ফেরা লিটন কুমার দাসের ৬৬ বলে ৭৬ আর মুশফিকুর রহিমের ৫১ রানের ইনিংসটাই বলার মতো। এর বাইরে তাওহিদ হৃদয় কিছুটা ভালো করলেও বাকিদের অবস্থা শোচনীয়। আর তাই ইংলিশ পেসে বিপর্যস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৮.২ ওভারে বাংলাদেশ ২২৭ রানে গুটিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সর্বনাশটা করেছেন রিস টপলি ৪ উইকেট নিয়ে। ধর্মশালায় দুই ম্যাচে জয় ও পরাজয়ের অম্ল-মধুর স্মৃতি নিয়ে এখন চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরবর্তী গন্তব্য চেন্নাই। শুক্রবার সেখানে আরেক শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন সাকিবরা।

ধর্মশালা স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ম্যাচের আগেই করেছে ইংলিশরা। সেটি যদিও অনেকখানি ভদ্রস্থ ও উন্নত করতে পেরেছে স্থানীয় আয়োজকরা, কিন্তু ঝুঁকি না নেওয়ার পরিকল্পনায় ইংল্যান্ড একাদশে নেয়নি ইনজুরি থেকে ফেরা বেন স্টোকসকে। আগের ম্যাচে খেলা মঈন আলীর পরিবর্তে এদিন খেলেছেন টপলি। আর বাংলাদেশ দল গত ম্যাচে স্পিনে সাফল্য পাওয়ায় এদিন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বসিয়ে অফস্পিন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসানকে নেওয়া হয়। টস জিতেছেন এদিনও সাকিব এবং যথারীতি বোলিং বেছে নিয়েছেন। সেটিই হয়তো তার জন্য বুমেরাং হয়েছে।কারণ আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে উইকেটে খেলা হয়েছে, সম্পূর্ণই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পিচ এদিন। তাই শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে ব্যাট চালিয়েছেন জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড মালান। দুজন মিলে ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। মাত্র ১৫.৩ ওভারে তারা দলকে শতরান এনে দেন। উড়ন্ত এই সূচনায় প্রথম আঘাত হানেন সাকিব। তার বাঁহাতি স্পিনে বোল্ড হয়েছেন ৫৯ বলে ৮ চারে ৫২ রান করা জনি বেয়ারস্টো। তবে এই জুটি ভেঙেও স্বস্তি আসেনি বাংলাদেশ দলে। কারণ পরবর্তীতে বাংলাদেশী বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন মালান ও জো রুট। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫১ রানের জুটি গড়েন মাত্র ১১৭ বল থেকে। আর এতেই বিশাল সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় ইংলিশরা। এক সময় মনে হয়েছে ৪০০ রানের কাছাকাছি একটা স্কোর পাবে তারা। কিন্তু সেটি হতে দেননি শেখ মেহেদি হাসান ও শরিফুল ইসলাম। শুরুর দিকে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও তারা দুজনই বাংলাদেশকে কিছুটা রক্ষা করেছেন।

মালান এবারই প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলছেন। আর দ্বিতীয় ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। সেটিও মাত্র ৯১ বলে। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই রান ছুটেছে রকেটের গতিতে। ক্যারিয়ারসেরা ১৪০ রান করেন তিনি ১০৭ বলে ১৬ চার ও ৫ ছক্কায়। তার এই রকেট গতিতে রাশ টেনেছেন শেখ মেহেদি। ৩৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মালানকে বোল্ড করে দেন তিনি। রুট অন্যদিকে থামেননি, এগিয়ে যাচ্ছিলেন দ্রুতবেগে। কিন্তু তাকে ৪০তম ওভারে থামিয়েছেন ফিরতি স্পেলে বোলিংয়ে আসা শরিফুল। রুট ৬৮ বলে ৮ চার, ১ ছয়ে ৮২ রান করেন। ৪২তম ওভারে তাকে আউট করেই পরের বলে লিয়াম লিভিংস্টোনকে বোল্ড করে দেন শরিফুল। এরপর মেহেদি ও শরিফুলের দাপটে খুব বেশি রান করতে পারেনি ইংলিশরা।

 সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩৬৪/৯ (বেয়ারস্টো ৫২, মালান ১৪০, রুট ৮২, বাটলার ২০, ব্রুক ২০, লিভিংস্টোন ০, কারান ১১, ওকস ১৪, রশিদ ১১, উড ৬*, টপলি ১*,

বোলিং: মুস্তাফিজ ১০-০-৭০-০, তাসকিন ৬-০-৩৮-১, শরিফুল ১০-০-৭৫-৩, শেখ মেহেদি ৮-০-৭১-৪, সাকিব ১০-০-৫২-১, মিরাজ ৬-০-৫৫-০)

বাংলাদেশ: ৪৮.২ ওভারে ২২৭ (লিটন ৭৬, তানজিদ ১, শান্ত ০, সাকিব ১, মিরাজ ৮, মিরাজ ৮, মুশফিক ৫১, হৃদয় ৩৯, মেহেদি ১৪, তাসকিন ১৫, শরিফুল ১২, মুস্তাফিজ ৩*,

বোলিং: ওকস ৮-০-৪৯-২, টপলি ১০-১-৪৩-৪, কারান ৭.২-০-৪৭-১, উড ১০-০-২৯-১, রশিদ ১০-০-৪২-১, লিভিংস্টোন ৩-০-১৩-১)

ফল: ইংল্যান্ড ১৩৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড মালান

Loading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *