বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার জায়গায় তো যোগ্য ব্যক্তিকেই আসতে হতো! সেই যোগ্য ব্যক্তিটা ছিলেন তামিম ইকবাল। মাশরাফি নিজেও অনেক সাক্ষাৎকারে তামিমকে নিয়ে বলেছেন, যোগ্য ব্যক্তির হাতেই পড়েছে নেতৃত্ব।তারপর ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে একসঙ্গে পথ চলতে চলতে তুই হয়ে গেলি বন্ধুর মতো। কত দিন কত রাত এক সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, একসঙ্গে খেতে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা, ।
যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলাম, তখন তুই ছিল আমার অন্যতম ‘স্নাইপার।’ সেটা তুই নিজেও খুব ভালো করেই জানিস। যেদিন দল থেকে বের হয়ে এলাম, সেদিন তুই আমাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলি। পরে সারারাত একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছিলাম। যে কোনও সিরিজ বা সফরে তুই ছিলি আমার রুমে আড্ডার অবধারিত সঙ্গী। আরও কত শত স্মৃতি এখন মনে পড়ছে!এরপর আজ (৬ জুলাই) তামিমের সংবাদ সম্মেলন ডাকা ও আকস্মিক অবসরের ঘোষণা। বিদায় বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তামিম। যা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকেই। তামিমকে নিয়ে আবেগী বার্তা দিয়েছেন তার সতীর্থরাও।
তবে যার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওয়ানডে অধিনায়ক হয়েছিলেন, সেই মাশরাফি বিন মর্তুজা বিশাল এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তামিমকে নিয়ে। যাতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তামিম কি স্বেচ্ছায় অবসরে নাকি চাপে পড়ে? মাশরাফির সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু জাগো নিউজের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-
‘তামিম, তোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই একান্তই তোর। এটা কারও ভালো লাগলেও তোর, ভালো না লাগলেও তোর। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথাই হবে। তবে সবচেয়ে ভালো কোনটা, সেটা তুই ছাড়া কেউই ভালো বুঝবে না। তাই তোর এই সিদ্ধান্তকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ সম্মান জানাই।
তোর মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি, সেই সঙ্গে এটাও বলছি যে, তুই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যা কিছু দিয়েছিস, তা আমরা আজীবন মনে রাখব। একজন তামিম হয়ে উঠতে কতটা পরিশ্রম, কতটা সময়, কতটা মেধা আর কত ত্যাগ থাকতে হয়, তা সময় সব কিছু বুঝিয়ে দেবে।
তোর প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা। পরবর্তী জীবন পরিবার নিয়ে দারুণ কাটাবি, সেই আশাই করছি। আর একটা কথা, দলের ভেতর নানা পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্লেষণ নির্ভর আলোচনা এখন কে করবে, ঠিক জানি না। হয়তো কেউ করবে। তবে তুই এই জায়গায় সবসময়ই থাকবি সেরাদের সেরা।
আমাদের এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’ দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার তামিম ইকবালের। ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের ঘরের মাঠে এই সংস্করণেই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তিনি। ২৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৬.৬২ গড়ে ৮৩১৩ রান করেছেন, সেঞ্চুরি ১৪টি, ফিফটি ৫৬টি। টেস্টে ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে তার সংগ্রহ ৫১৩৪ রান। ৩১ ফিফটির সঙ্গে করেছেন ১০ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে ৭৮ ম্যাচে করেছেন ১৭৫৮ রান। দেশের একমাত্র সেঞ্চুরির সাথে আছে ৭টি ফিফটিও।গুড বাই মি. তামিম ইকবাল খান। একজন কিংবদন্তির বিদায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শুভ কামনা, এগিয়ে চলুক দুর্বার গতিতে।
![]()
