জুমাস ডেস্ক: মরক্কোয় শক্তিশালী ভূমিকম্পে চারদিকে এত ধ্বংসযজ্ঞ আর মৃত্যুর মিছিল নিজ চোখে কবে দেখেছে মনে পড়ে না মরক্কোবাসীর। এবারের ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ হাজারও আবাসিক ঘর-বাড়ি। ভবনের নিচে প্রাণের সন্ধান না মিললেও বেরিয়ে আসছে লাশের পর লাশ।
সবশেষ ব্রিফিংয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। গুরুতর আহত আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ। সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।দেশটির বাসিন্দারা জানান, বিগত একশ বছরেও এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখেনি। মাত্র ২০ সেকেন্ডেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কয়েকটি শহর। অনেকে ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারান। খবর রয়টার্সের। এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে দেশটির আল হাউজ প্রদেশে। হাজার-হাজার মানুষ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।
জরুরি বিভাগের সদস্যরা বহু প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি এখনও। ঐ এলাকাগুলোয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দুর্যোগে কবলিত।গত শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১১ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির ১৯ মিনিট পর আরেকটি ভূকম্পন হয়। রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। রাতে প্রাণরক্ষায় অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। শনিবারও শত শত মানুষকে সড়কের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, মরক্কোর চতুর্থ বৃহত্তম শহর মারাকেচ থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আটলাস পর্বতমালায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার।মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মারাকেচ, আল-হাউজ, ওয়ারজাজেট, আজিলাল, চিচাউয়া, তারউদান্ত এলাকায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশিরভাগ প্রাণহানি ঘটেছে পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন।মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি আশ্রয়ের ব্যবস্থা, খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেন।
এদিকে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভ্যাটিকান পোপ এ নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা বলেছেন, ফ্রান্স প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে প্রস্তুত। মরক্কোর প্রতিবেশী স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মরক্কোর জনগণের প্রতি সংহতি ও সমর্থন ব্যক্ত করেন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ বলেছেন, আমরা বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরক্কোর প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের জনগণ, সরকার ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আমি এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এবং সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকের এই মুহূর্তে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এবং মরক্কোর জনগণের সঙ্গে আছি।
মরক্কোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন রাবাতের বাংলাদেশ দূতাবাস। রাবাতের বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উম্মুল হুসনাইন শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটের দিকে এক হোয়াটসঅ্যাপ টেক্সটে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের বড় স্বস্তি এটাই যে, আমরা দেখেছি সব বাংলাদেশি প্রবাসী নিরাপদে আছেন।
তিনি আরও জানান, তারা মরক্কোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
![]()
